সুপারি জর্দা চুন ব্যবহার করলে পান পাতার আসল উপকারীতা নষ্ট হয়ে যায়।প্রিয় দর্শক আজকে আমরা জানবো পান পাতা ব্যবহারের কিছু ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা হয় পান পাতা।চলুন জেনে নেই সাস্থ সমস্যায় পান পাতার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার। পান পাতার রস বা পান পাতা খুবই কার্যকরী ও উপকারী। এই পান পাতা ভেষজ ও আয়ুবেদিক চিকিৎসার এহ্মেরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আয়ুবেদিক বিভিন্ন বিকিৎসায় এই পান পাতা ব্যবহার করা হয়। পান পাতার মধ্যে রয়েছে হাজারও ঔষধি গুনাগুন। তাই আজকে আমরা পান পাতার ১০টি ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে জানবো। শীতে ঠান্ডা লেগে গেছে? গলার খুসখুসে কাশি কমাতে এক গ্লাস গরম পানির মধ্যে ৫ টেবিল চামচ পরিমান পানের রস মিশিয়ে খাবেন। এতে করে দেখবেন আপনি অনেক খানি আরাম পাবেন। এর ফলে খুব সহজেই আপনার গলা খুসখুস ভাব কমে যাবে এবং কাশির সমস্যা ও মুহূর্তের মধ্যেই কমে যাবে। শরীলের কোন অংশে কেটে গেলে যেমন, হাত পা কাটলে এন্টিসেফটিক হিসেবে ব্যবহার করা হয় পান পাতা। ছোটখাটো কাটা ছেঁড়ায় পান পাতা বেটে লাগিয়ে দিতে পারেন। গবেষকরা বলছেন পান পাতার রসে উচ্চ মাত্রার এন্টিসেফটিক গুনাগুন রয়েছে।
এছাড়াও যাদের আর্থারাইটিস বা বাতের সমস্যা আছে, তাদের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে পান পাতা। হ্মত নিরাময় করতে এই পান পাতার ব্যবহার করা হয়। এই পান পাতায় আছে উচ্চ মাত্রার এ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল রাসায়নিক তাই পান পাতা বেটে হ্মতস্থানে দিলে দূর্ত হ্মত নিরাময় হয়। দাঁতের ব্যাথা অথবা মাড়িতে যন্ত্রনা, রক্ত পড়া এসকল নানা রকম সমস্যায় মাউথ ফ্রেশনার হিসেবে পান পাতা খুব কার্যকরি ভূমিকা রাখে। পান পাতা খাওয়ার ফলে যে রস উৎপাদন হয়, তা আমাদের দাঁত ও মাড়িকে সুস্থ রাখে। এছাড়াও পান পাতার রস আমাদের মুখের ভেতরে পরিষ্কার রাখে। এবং মুখের ভিতরে রক্ত খরণ বন্দ করে পান পাতার রস। পান পাতা বেটে তার রস এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে রোজ সকালে তা দিয়ে গড়গড়া করবেন। দেখবেন কয়েক দিনের মধ্যেই আপনাদের মাড়ির যেকোনো সমস্যা এমনকি আপনার মুখের দুর্গন্ধ থাকলে, সেটিও খুব সহজে চলে যাবে। ঠান্ডা সর্দি কাশি হলেও পান পাতার রস খুবি কার্যকরি ও উপকারী। এটা কিন্তু ঠান্ডা সর্দি লাগলে কমাতে সাহায্য করে।বুকে সর্দি জমে গেলে সরিষার তেল আর পান পাতা ভালো করে গরম করে বুকে লাগাতে থাকুন। দেখবেন কিছুহ্মণ পর আপনার সর্দি কমে গেছে। এছাড়াও ঠান্ডা লেগে সর্দি হলে পান পাতা এলাচ লবঙ্গ একসাথে পানিতে ফুটিয়ে খুব ভালো করে জাল করে নিবেন। এর পর এটি আপনাকে কুসুম গরম অবস্থায় খেতে হবে। দেখবেন কিছু দিনের মধ্যেই আপনার সর্দি সেরে গেছে। এছাড়াও মুখে ব্রণ উঠা,বিভিন্ন ধরণের বিষাক্ত ফোড়া,ফুসকুড়ি, এলার্জি হলে পান পাতার রস খুব কার্যকরী।

এটি ত্বকের জন্য খুবি ভালো। খুবি কম সংখ্যক মানুষ জানেন যে, পানের মধ্যে এন্টিমাইক্রোবিয়াল প্রপার্টি আছে। আর এটি পিম্পলস একমি সহজেই সারিয়ে তোলে। এছাড়াও বিভিন্ন স্কিন এলার্জি ফুসকুড়ি সানবার্ণ। অর্থাৎ সূর্যের তাপে পুড়ে যাওয়া ত্বককে সারাতেও পান পাতার রস অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য একটি তাজা পান পাতা বেটে তার রস বের করে নিবেন। তারপর দুই টেবিল চামচ পান পাতার রসের সঙ্গে আদা টেবিল চামচ অর্গানিক হলুদের গুঁড়া নিতে হবে। তার পর সেটি খুব ভালে ভাবে মিক্স করে নিতে হবে। এই মিশ্রণটি হাতে অথবা মুখে যেকোনো স্থানে যদি ব্রণ বা বিষাক্ত পিম্পল ফুসকুড়ি সানবার্ণ হয়ে থাকে, সে হ্মেরতে খুব ভালো করে প্রলেপ দিয়ে নিবেন। তারপর সেটি শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর যখন শুকিয়ে যাবে তখন ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিবেন। দেখবেন কিছু দিন পর আপনার উক্ত সমস্যা আর থাকবে না। শরীরের যে কোনো স্থানে ফাংগাল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যেমন,পায়ের আঙ্গুল থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের মধ্যে এই ইনফেকশন হতে পারে সেখানে পানের রস লাগান। ইনশাআাল্লাহ কয়েক দিনের মধ্যেই আপনার ইনফেকশন সেরে যাবে। পান পাতা আমাদের হজম শক্তি বাড়ায়। তবে সেহ্মেতে মাথায় রাখতে হবে, সুপারি এবং অত্যাধিক মাত্রায় জর্দা দিয়ে যদি আপনি পান পাতা খান তাহলে সেটা কিন্তু আর উপকার করবে না। কেননা পান যদিও উপকারী কিন্তু সুপারি ও জর্দা কখনো উপকারী নয়। প্রিয় দর্শক সর্বশেষ বলতে চাই কারো যদি অনেক বেশি স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তায় মাথা ব্যাথা করে অসস্তি লাগে। এই মাথা ব্যাথা সারাতেও আপনি চাইলে এই পান পাতার রস মাথায় ম্যাসেজ করতে পারেন। তারপর চোখ বন্দ করে খানিকটা সময় রেস্ট নিয়ে নিবেন। দেখবেন কিছুহ্মনের মধ্যেই আপনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। ইনশাআল্লাহ ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনার মাথা ব্যাথা একদমই কমে গেছে।