আজকে আমরা তোকমা দানা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানবো। আমাদের দেশে তোকমা একটি জনপ্রিয় বীজ দানা। আয়ুর্বেদ, ইউনানী ও চীনা মেডিসিনে এর প্রকর ব্যবহার রয়েছে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আঁশ প্রোটিন আয়রণ ও ক্যালরি তোকমার ইংরেজি নাম Pignut.এছাড়া স্থানিয় ভাবে একে তোকমা ভিলাতি তুলসি কাঁচা তুলসি ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়।
ভেষজ গুণাবলী পেতে এই বীজ দিয়ে তৈরি শরবত ও নানা উপায়ে খাওয়া হয়। এছাড়াও রোপ চর্চাতেও গুড়ো করে ব্যবহার করা হয় এই তোকমার দানা। পুষ্টি বিজ্ঞানের মতে প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার যোগ্য তোকমায় রয়েছে ২৩৩ কিলোক্যালরি ২৩ গ্রাম প্রোটিন ও ৩৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট।
যে ভাবে খেতে হবে তোকমার বীজ, এক টেবিল চামচ তোকমার বীজ এক গ্লাস পানিতে বিজিয়ে রাখুন সারা রাত। ছোট ছোট কালো ধানার বীজ গুলো সারা রাত বিজিয়ে রাখাতে ফুলে উঠবে। সকালে এই পানি ফুলে উঠা তোকমা বীজ সহ প্রাণ করে নিন খালি পেটে সঙ্গে এক চামচ খাঁটি মধু যোগ করতে পারেন।
আসুন জেনে নেই নিয়মিত তোকমা দানা সেবনের উপকারীতা,,,,
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে অত্যান্ত কার্যকর তোকমা। সামান্য তোকমা অল্প পরিমান পানিতে বিজিয়ে রেখে তা কিছুহ্মণ পর দুধে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। তবে পেটে হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
ওজন কমাতে,,অনেকেই শরীরের ওজন কমাতে চান সে জন্য তোকমা অনেক সহায়ক খাদ্য হিসেবে উপকার করে থাকে।এতে শুধু মাত্র আঁশই থাকে না কারণ তোকমা শরীরে অনেক শক্তি সরবরাহ করে।যদি তোকমা দানা বাদাম ও শুকনো ফলের সাথে মিশ্রন করে এক মুঠো পরিমান খাওয়া হয় তা হলে দীর্ঘহ্মণ খোদা মুক্ত থাকা যায়। এজন্য খুব সহজে শরীরের ওজন নিয়ন্তন করা সম্ভব।
দেহের তাপ কমায়,, তোকমা গরম কালে দেহের তাপ কমাতে সাহায্য করে।আর একারণে গরম আবহাওয়ার দেশ গুলোতে বল্হু মানুষ তোকমার শরবত প্রাণ করেন। এটি সুসাধু করার জন্য চিনি মধু এমনকি কোথাও কোথাও নারিকেল দুধ দেওয়া হয়।
রক্তের শর্করা নিয়ন্তন,,, রক্তের শর্করা নিয়ন্তন করতে তোকমার গুরুপ্ত অনেক।মূলত দেহের বিপাক ক্রিয়া দির করে দেয় তোকমা। ফলে কার্বোহাইড্রেট গ্লোকোজে রোপান্তরের পদ্ধতি করতে সহজ হয়। একারণে ড্রাইটটো ড্রাইট ডায়াবেটিস যাদের রয়েছে তারা এটি নিয়মিত খেতে পারেন।
অ্যাসিডিটি দূর করে,,তোকমা অ্যাসিডিটি দূর করতে অত্যান্ত কার্যকর।এটি পেটের এসিড নিয়ন্তন করে জালাপোড়া দূর করে এজন্য জলে সামান্য তোকমা বিজিয়ে রেখে প্রাণ করতে হবে। তোকমার বীজ পানিতে পরিপূর্ণ থাকে যা দেহের হ্মতিকর পদার্থ দূর করতে অত্যান্ত কার্যকর।
সুস্থ ত্বক ও চুল,,,,ত্বকের যে কোনো সমস্যায় তোকমা ব্যবহার করা হয়। এজন্য তোকমা বীজ গুড়ো করে নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হয় এটি নানা চর্মরোগ নিয়ন্তনে কাজ করে। এটি অ্যাকজিমা ও সোরাই এসিস্ট নিরাময়ে কার্যকর। সুস্থ চুলের জন্য এটি খাওয়া ও যেতে পারে।
ঠান্ডার সমস্যায়,,,,তোকমার বীজে রয়েছে ঠান্ডা প্রতিরোধি উপাদান।এটি আপনার দেহকে ঠান্ডার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। সর্দি কাশি থেকে দূরে থাকতে চাইলে তাই নিয়মিত তোকমা খাওয়া যেতে পারে।
যৌন উদ্দিপক,,,,নিয়মিত তোকমার শরবত প্রাণ করলে যৌনশক্তি বাড়ে।শরীরে শক্তি আসে তরুণদের মতো।
ফোঁড়া পাকাতে,,,তোকমা পানিতে বিজিয়ে ফোঁড়ার মুখের চারপাশে লাগিয়ে দিলে শ্রীগরই ফোঁড়া পেকে যায়।
প্রাপ্তি স্থান,,,অ্যামাজনের মতো অনলাইন সাইডে সহজে তোকমা দানা কিনতে পারবেন।
সতর্কতা,,, গর্ভবতী নারীদের দেহের প্রায়োজনীয় হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে তোকমা।গর্ভবতী নারী ও শিশুদের তোকমা খাওয়া উচিত নয়। ভালোভাবে পানিতে গুলিয়ে না খেলে এটি পেটে ফুলে যেতে পারে। তাই যখন খাবেন তখন সেটা পানিতে ৭-৮ ঘন্টা বিজিয়ে বা সারা রাত বিজিয়ে রাখবেন।এতে মারাত্বক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে না হলে এমনকি শিশুদের শ্বাসরুত হতে পারে।।